সিলেট ১লা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৮ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি
প্রকাশিত: ৪:৫৪ অপরাহ্ণ, মে ৩১, ২০২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক : ভারতের মেঘালয় রাজ্যে টানা ভারী বর্ষণের ফলে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে সিলেট জেলার সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কোম্পানিগঞ্জ, কানাইঘাটসহ বিস্তীর্ণ জনপদ। এতে যান ও জন চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অতি প্রবল বৃষ্টিতে সুরমা, কুশিয়ারা, সারি ও পিয়াইন নদীর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ইতিমধ্যে বিপৎসীমা ছুই ছুই করছে। সেই সঙ্গে নগরীর অধিকাংশ এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। গতকাল শুক্রবার উপজেলার সারি, গোয়াইন ও পিয়াইন নদীর তিন পয়েন্টের পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। তবে জাফলং ডাউকি নদীর পানি বিপদ সীমার কাছাকাছি ছিল। এদিকে জাফলংয়ে ডাউকির পানি বৃদ্ধির কারণে পর্যটন স্পটের অস্থায়ী স্থাপনা ও পর্যটনকেন্দ্র ভেসে গেছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপের প্রভাবে সিলেট বিভাগে অতি ভারী বৃষ্টির আভাস আগেই দিয়েছিল আবহাওয়া অধিদপ্তর। সিলেট আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ রুদ্র তালুকদার জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে ৩০০ মিলিমিটার। শনিবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সিলেটে ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হলেও দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ১৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের রেকর্ড করা হয়েছে। উজানে ভারতের চেরাপুঞ্জিতেও বৃষ্টি হচ্ছে, মূলত চেরাপুঞ্জিতে বেশি বৃষ্টি হলে পাহাড়ি ঢল নামে। গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বাঁধন কান্তি সরকার জানান, টানা বৃষ্টিতে নদ-নদীর পানি বাড়লেও আপাতত বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির কোনো আশঙ্কা নেই। তিনি বলেন, উপজেলার নিম্নাঞ্চলে প্লাবিত হয়ে স্বল্প মেয়াদে বন্যা হতে পারে। তবে বড় কোনো বন্যার আশঙ্কা নেই। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এখন হাওরে কোনো ধান নেই। ধান কাটা শেষ। তাই বন্যা হলেও ধানের ক্ষতির কোনো আশঙ্কা নেই। তবে সীমান্তবর্তী উঁচু এলাকায় সবজির চাষ করা হচ্ছে। অতিবৃষ্টি ও ঢলের পানিতে সেগুলোর ক্ষতির আশঙ্কা আছে। গোয়াইনঘাট এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা সারওয়ার হোসেন সারাবাংলাকে বলেন, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে অনেকেই মৌসুমি গবাদিপশু পালন করেন। বন্যা হলে তারা ভোগান্তিতে পড়বেন বেশি। ইতিমধ্যে গবাদিপশু নিয়ে ভোগান্তি বেড়েছে। জাফলং পর্যটন স্পটের টুরিস্ট পুলিশের ওসি শাহাদাৎ হোসেন জানান, জাফলং প্রচুর পরিমাণ বৃষ্টি হচ্ছে এবং পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি বাড়ছে। টুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে পর্যটকদের নিরাপত্তায় সকল ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং পর্যটকদের ঝুঁকি এড়িয়ে নিরাপদে অবস্থান করার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, ভারতের মেঘালয় চেরাপুঞ্জিতে প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে পাহাড়ি ঢল নেমে এসেছে। ইতোমধ্যে সিলেটের গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কোম্পানীগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলার বেশ কিছু নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। পরিস্থিতি আমরা আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। তিনি আরও বলেন, সারি, ধলাই ও পিয়াইন নদীর পানি বিপদসীমা ছুই ছুই করছে। এটি যে কোনো মুহূর্তে বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। উজানের ঢলের পানি কয়েকদিন প্রবাহিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করেন তিনি। এদিকে, ভারী বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তোড়ে সিলেট নগরীর রাস্তাঘাট, ছোট বড় সড়ক আর শত শত বাসা বাড়ি ডুবে গেছে। শনিবার দুপুর ১ টা থেকে হঠাৎ বদলে যায় সিলেট নগরীর চিত্র। পানিতে নিমজ্জিত সিলেট এয়ারপোর্ট সড়ক, সিলেট -সুনামগঞ্জ সড়কে দুপুর থেকে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। নগরের বিভিন্ন এলাকায় দোকান পাট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়ায় লাখ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়বেন ব্যবসায়ীরা। শত শত বাসা বাড়ির নিচতলা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বাসিন্দারা এক লন্ডভন্ড অবস্থার মুখোমুখি হয়েছেন। আসবাবপত্র, বেড বিছানাসহ সবকিছু নষ্ট হয়ে গেছে। শহরের অপেক্ষাকৃত নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়ায় এসব এলাকার লোকজন বেশি ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
সম্পাদক : সাদিকুর রহমান সাকী
Design and developed by EBN-HOST-BD