সিলেট ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৫ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি
প্রকাশিত: ৮:৪৭ পূর্বাহ্ণ, জুন ৩, ২০২৫
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জে বৃষ্টি কিছুটা কমলেও নদ-নদীর পানি বাড়ছে। ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢল আবার শুরু হলে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। প্রশাসন প্রস্তুত থাকলেও স্থানীয়রা রয়েছেন দুর্ভোগে। বিশেষ করে জেলা শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত সুরমা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ১১ সেন্টিমিটার বেড়েছে। । সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলোর এখন যে অবস্থা, তাতে ভারী বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢল নামলে বন্যা পরিস্থিতির শঙ্কা আছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সুনামগঞ্জ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ৯টায় সুরমা নদীর ষোলঘর পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ৬ দশমিক ৯৭ মিটার, যা গত রবিবার ছিল ৬ দশমিক ৮৬ মিটার। যদিও এখানকার বিপৎসীমা ৮ দশমিক ৮০ মিটার, তবে পানি বৃদ্ধির প্রবণতা উদ্বেগজনক। এ সময়ের মধ্যে সুনামগঞ্জে বৃষ্টিপাত হয়েছে ৩০ মিলিমিটার, আর উজানের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টি কিছুটা কমেছে।
এদিকে জগন্নাথপুর উপজেলার কুশিয়ারা নদীর পানি বেড়ে বিভিন্ন গ্রাম ও হাটবাজার প্লাবিত হয়েছে। পাইলগাঁও ইউনিয়নের অলইতলী গ্রামে সড়ক ভেঙে নদীর পানি প্রবেশ করেছে। তলিয়ে গেছে নদীতীরবর্তী গ্রামীণ সড়ক। ফলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অনেক ঘরবাড়িতেও পানি উঠেছে।
পাইলগাঁও ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নজমুদ্দিন জানান, কুশিয়ারার পানি বেড়ে জগন্নাথপুর -বেগমপুর সড়কের বেশ কিছু অংশ তলিয়ে গেছে। হাঁটুসমান পানি জমেছে বহু বাড়িতে।
জগন্নাথপুর উপজেলার ইউএনও বরকত উল্লাহ জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে এখনো কেউ সেখানে আশ্রয় নেয়নি।
সুনামগঞ্জ সদর, ছাতক, দোয়ারাবাজার, তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর এই পাঁচ সীমান্তবর্তী উপজেলায় বরাবরের মতো এবারও পানি বেড়েছে বেশি। বিশেষ করে ছাতক উপজেলার নদ-নদীগুলো এখন পানিতে টইটম্বুর। ভারী বৃষ্টি হলেই বড় ধরনের বন্যা দেখা দিতে পারে।
সদর উপজেলার হাসনবাহার গ্রামের বাসিন্দা নূর হোসেন জানান, সামনে ঈদ। কিন্তু বৃষ্টির কারণে পশুরহাট জমছে না। আবহাওয়া খারাপ থাকলে গরু ব্যবসায়ীরা বড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।
পাউবো সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার বলেন, ‘ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এতে করে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। তবে এখনো বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই।’
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস মিয়া বলেন, ‘পরিস্থিতি উন্নতির দিকে যাচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে। আগের মতো এখন আর সরকারি কর্মকর্তাদের কর্মস্থল ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন হচ্ছে না। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া আছে।’
২০ মে থেকে সুনামগঞ্জে বৃষ্টি শুরু হয়। শুরুতে তা হালকা ও মাঝারি ছিল, কিন্তু গত বৃহস্পতিবার থেকে ভারী বৃষ্টি শুরু হয় এবং একই সময় ভারতের চেরাপুঞ্জিতেও বৃষ্টি বাড়ে। এতে উজান থেকে পাহাড়ি ঢল নেমে আসে এবং নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
সম্পাদক : সাদিকুর রহমান সাকী
Design and developed by EBN-HOST-BD