সালুটিকর-গোয়াইনঘাট সড়কে নিম্নমানের কাজ, দুদকের তদন্তে ধরা পড়লো অনিয়ম

প্রকাশিত: ৩:৫৪ অপরাহ্ণ, জুন ২৬, ২০২৫

সালুটিকর-গোয়াইনঘাট সড়কে নিম্নমানের কাজ, দুদকের তদন্তে ধরা পড়লো অনিয়ম

নিজস্ব প্রতিবেদক : জনগণের অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ফের সক্রিয় ভূমিকায়। সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার খাতে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়মিতভাবেই আলোচনায় থাকলেও মাঠপর্যায়ে সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে এসব অভিযোগ যাচাই করে দেখা হচ্ছে বাস্তব চিত্র। তারই অংশ হিসেবে আজ, সিলেট জেলার সালুটিকর-গোয়াইনঘাট সড়কের সংস্কার প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে পরিচালিত হয় একটি গুরুত্বপূর্ণ এনফোর্সমেন্ট অভিযান।

এই অভিযান পরিচালনা করে দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, সিলেট। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী, উপজেলা প্রকৌশলী, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান DCL & MDH-এর প্রতিনিধিগণ, এবং এলাকার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সচেতন নাগরিকবৃন্দ। অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি, মান ও নিয়মনীতি অনুসরণ নিশ্চিত হয়েছে কিনা তা যাচাই করা।

প্রকল্পটির ইতিহাস পর্যালোচনায় জানা যায়, ২০২৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক সংস্কারের জন্য DCL & MDH-কে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। তবে বাস্তবে প্রকল্পের অগ্রগতি ও গুণগত মান দুটোতেই স্পষ্ট ঘাটতির প্রমাণ পাওয়া যায়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি অনুযায়ী ৬০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বললেও, দুদকের সরজমিন পর্যবেক্ষণে দেখা যায় প্রকৃতপক্ষে কাজের অগ্রগতি ৫০ শতাংশেরও নিচে। এই তথ্য প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতি ও জবাবদিহিতার অভাবকে সামনে নিয়ে আসে।

এছাড়া অভিযানে আরও একটি গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়ে: প্রকল্পের মোট দৈর্ঘ্য ১০ কিলোমিটার হলেও এর মধ্যে প্রায় ১৩০০ মিটার সড়ক সংস্কারের আওতায় অন্তর্ভুক্তই করা হয়নি। অর্থাৎ প্রাক্কলন ও বাস্তবায়নের মাঝে রয়েছে বড় ধরনের অমিল। বিষয়টি প্রকল্পের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন পর্যায়ে জবাবদিহির অভাব এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক অপচয়ের ইঙ্গিত দেয়।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে আসে নির্মাণসামগ্রীর মান পরীক্ষায়। প্রাথমিকভাবে দেখা যায়, কাজে ব্যবহার করা হয়েছে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী, যা দীর্ঘমেয়াদে সড়কের টেকসই ব্যবহারে ঝুঁকি সৃষ্টি করবে। এই ধরণের নিম্নমানের কাজ সরকারি অর্থের অপব্যবহার এবং জনস্বার্থের পরিপন্থী।

দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিট现场 তদন্তের পাশাপাশি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাগজপত্র, বিল, কার্যাদেশ, সময়সীমা পরিবর্তনের আবেদন এবং বাস্তব কাজের অগ্রগতি সম্পর্কিত রেকর্ড পর্যালোচনা করছে। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যও নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে এসব তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে কমিশনের নিকট একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

দুদকের এ ধরনের তৎপরতা জনস্বার্থ রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে মনে করেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকেরা। তাঁদের মতে, শুধু অভিযোগ গ্রহণ নয়, মাঠপর্যায়ে সরাসরি যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপই পারে উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ