বাংলাদেশি পাসপোর্টে বাড়ছে ভিসা জটিলতা

প্রকাশিত: ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ, মে ১১, ২০২৫

বাংলাদেশি পাসপোর্টে বাড়ছে ভিসা জটিলতা

নিউজ ডেস্ক

কয়েক বছর আগেও ভিয়েতনাম কিংবা ইন্দোনেশিয়ায় যেতে বাংলাদেশিদের কোনো ভিসার প্রয়োজন হতো না। এক্ষেত্রে অন অ্যারাইভাল ভিসা বা ইমিগ্রেশন অ্যাপ্রুভাল নিয়েই দেশ দুটি ভ্রমণ করা যেত। বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা অনুমোদনে নানা শর্ত ও জটিলতা বাড়িয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়াও। এ তিন দেশের অনেক ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যাত হচ্ছে। যারা বেশ কয়েকবার এসব দেশ ভ্রমণ করেছেন তাদের ভিসা আবেদনও অনুমোদন হচ্ছে না। বাংলাদেশিদের ভিসা ইস্যুর জন্য নতুন অনেক শর্তও জুড়ে দেয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, গত বছরের জুলাইয়ে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা ইস্যু বন্ধ করে দেয় মধ্যপ্রাচ্যের সমৃদ্ধ অর্থনীতির দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও অভিবাসী শ্রমিকের পাশাপাশি পর্যটন ভিসাও বন্ধ করে দেয় দেশটি। সম্প্রতি বাংলাদেশিদের জন্য সীমিত পরিসরে ভিসা চালুর ঘোষণা দিয়েছে আমিরাত। তবে এক্ষেত্রে দিনে ভিসা দেয়া হচ্ছে মাত্র ৩০ থেকে ৫০টি।

স্বল্প বাজেটে প্রতিবেশী দেশ ভারত ঘুরতে গিয়ে অনেক বাংলাদেশি স্থলপথে নেপাল ও ভুটান ভ্রমণেও যেতেন। দক্ষিণ এশিয়ার ছোট এ দুটি দেশে ভ্রমণ করতে বাংলাদেশিদের ভিসার প্রয়োজন হয় না। অন অ্যারাইভাল ভিসা নিয়েই বাংলাদেশিদের নেপাল ও ভুটানে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে গত বছরের ৫ আগস্ট দেশে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে ভারতের পক্ষ থেকে ভিসা ইস্যু প্রায় বন্ধ করে দেয়া হয়। জরুরি চিকিৎসা ছাড়া অন্য কোনো প্রয়োজনে বৈধ পথে বাংলাদেশিদের ভারত যাত্রা বন্ধ রয়েছে। ভারতের ভিসা না পাওয়ায় বাংলাদেশিদের নেপাল ও ভুটান ভ্রমণও সীমিত হয়ে গেছে।

খবরে প্রকাশ, গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করে পাকিস্তান। ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়ে আলোচনা এগিয়েছিল। বাংলাদেশি পর্যটকদের অনেকে পাকিস্তানে যেতে আগ্রহীও হয়েছিলেন। কিন্তু ভারত-পাকিস্তানের সাম্প্রতিক যুদ্ধ ও পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় বাংলাদেশিদের সে আগ্রহেও ভাটা পড়ছে।

অভিবাসন ও পর্যটন খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক সূচকে (হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স) বাংলাদেশি পাসপোর্টের অবস্থান এখন উত্তর কোরিয়া কিংবা লিবিয়ার পর্যায়ে। এ কারণে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসার শর্ত ও জটিলতা বাড়ছে। গত কয়েক বছর পর্যটক হিসেবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ঘুরতে গিয়ে অনেক বাংলাদেশি আর ফেরেননি। অবৈধভাবে তারা গন্তব্যের দেশে থেকে গেছেন কিংবা চোরাই পথে অন্য দেশে পাড়ি দিয়েছেন। এসব কারণে এ অঞ্চলের দেশগুলোয় বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা ইস্যু বন্ধ হচ্ছে কিংবা জটিলতা বাড়ছে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির এ বিষয়ে বলেন, ‘দেশে কর্মসংস্থান না হলে তারা যেকোনো উপায়ে বিদেশ পাড়ি দিতে চাইবে, এটিই স্বাভাবিক। পর্যটক হিসেবে গিয়ে কাজ করা কিংবা অবৈধ পথে বিদেশ যাত্রার কারণেই বাংলাদেশিদের ভিসা ইস্যু নিয়ে জটিলতা ও নিষেধাজ্ঞা বাড়ছে। আর বিদেশে বাংলাদেশি পাসপোর্টের গ্রহণযোগ্যতাও কমছে।’

প্রতি বছর বিশ্বের ১৯৯টি দেশের পাসপোর্ট ও ২২৭টি ভ্রমণ গন্তব্য নিয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট সূচক প্রকাশ করে যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত সর্বশেষ সূচক অনুযায়ী, বিশ্বে বাংলাদেশি পাসপোর্টের অবস্থান ছিল ৯৫তম। বাংলাদেশের ওপরে ৯৪তম স্থানে আছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা উত্তর কোরিয়া। আর বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে একই অবস্থানে আছে যুদ্ধবিধ্বস্ত লিবিয়ার নাম।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ