সিলেট ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি
প্রকাশিত: ৪:৪১ অপরাহ্ণ, মে ১৮, ২০২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক : লিচুর জন্য এখন আলাদাভাবে পরিচিত হয়ে উঠছে সুনামগঞ্জের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা মানিকপুর। ছাতক উপজেলার এই গ্রামের ছোট-বড় টিলাজুড়ে গড়ে উঠেছে বাণিজ্যিক লিচু বাগান। চলতি মৌসুমে বোম্বাই, চায়না থ্রি ও দেশি জাতের লিচুর আশাব্যঞ্জক ফলনে খুশি চাষিরা।
প্রতিদিনই দেশের নানা স্থান থেকে পাইকাররা ছুটে আসছেন মানিকপুরের বাগানে। এখানকার রসালো লিচু দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হাটবাজারে পৌঁছে যাচ্ছে। ফলে লিচু চাষ এখন অর্থনৈতিক মুক্তির হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
এই গ্রামের আবদুল হামিদ একসময় ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় পাড়ি জমিয়েছিলেন সৌদি আরবে। স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে খরচ করেন প্রায় চার লাখ টাকা। কিন্তু তিন বছরেও প্রবাসে স্বপ্ন পূরণ হয়নি। হতাশ হয়ে দেশে ফিরে কয়েক মাস বেকার জীবন কাটিয়ে শুরু করেন লিচু চাষ।
তিনি বলেন,
“১৫ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করেছিলাম। এখন বছরে আয় হয় এক থেকে দেড় লাখ টাকা। বিদেশে ভাগ্য বদলায়নি, কিন্তু নিজের মাটিতে হয়েছে।”
মানিকপুর গ্রামের অধিকাংশ পরিবার এখন লিচু চাষে জড়িত। রোজগার হচ্ছে প্রতিটি মৌসুমে। কেউ নিজে চাষ করছেন, কেউ লিচু ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। লিচু বাগান ঘিরে শ্রমিকদেরও কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন,
“পাহাড়ি টিলায় একসময় জঙ্গল ছিল, এখন সেখানে টসটসে লিচুর রাজত্ব।”
হামিদের মতো সফলতার কাহিনী মানিকপুরের শতাধিক চাষির। প্রতিবছর এখানে বাড়ছে বাণিজ্যিকভাবে লিচু চাষের পরিধি। বিশেষ করে নব্বইয়ের দশকে গ্রামের শৌখিন কিছু মানুষ বাড়ির আঙিনায় লিচুর চাষ শুরু করেন। অন্য ফলের তুলনায় বেশি লাভ হওয়ায় চাষিরা তখন ঝুঁকের লিচুর দিকে। তৈরি হতে থাকে লিচুর বাগান। বাড়ির আঙিনা, রাস্তার ধার থেকে শুরু করে মাঠে-ময়দানে ছড়িয়ে পড়ে লিচুর চাষ। লিচুই যেন বদলে দিয়েছে এখানকার মানুষের অর্থনীতির হালচাল।
লিচু চাষি রহমত আলী বলেন, ‘যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না বলে আমাদের গ্রামের লিচু কিনতে পাইকাররা কম আসে। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হলে লিচু বাড়তি দামে বিক্রি করে আমরা আরো বেশি লাভবান হবো।’
বক্কর মিয়া নামের আরেক চাষি বলেন, ‘এ বছর লিচুর বেশ ফলন হয়েছে। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নতি হলে আমরা বেশি দামে লিচু বিক্রি করতে পারতাম।
চাষি সিদ্দিক মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, প্রতি হাজার লিচু দুই হাজার করে বিক্রি করছি। এ বছর মানিকপুরে লিচুর ফলন ভালো হয়েছে। বেশ লাভ হয়েছে আমার।’
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক জাগো নিউজকে বলেন, ‘ ছাতকের এ গ্রামের ৬ হাজার লিচু গাছ থেকে প্রতি বছর প্রায় কোটি টাকার লিচু উৎপাদিত হয়। চাষিরা যাতে লিচু চাষে আরও আগ্রহী হয়ে ওঠে সে জন্য কৃষি বিভাগ কাজ করছে।’
সম্পাদক : সাদিকুর রহমান সাকী
Design and developed by EBN-HOST-BD