একটি রাস্তা, বহু যন্ত্রণার গল্প : আজিজপুর-বাংলাবাজার সড়কের করুণ চিত্র

প্রকাশিত: ৯:৪৯ পূর্বাহ্ণ, মে ২৪, ২০২৫

আজিজপুর-বাংলাবাজার সড়কের বেহাল দশা

তারেক আহমদ, বালাগঞ্জ : সড়ক হলো একটি অঞ্চলের উন্নয়নের প্রাথমিক ভিত্তি, আর যোগাযোগব্যবস্থা সচল থাকলেই চালু থাকে জীবনের স্বাভাবিক গতি। তবে সিলেট জেলার বালাগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়নের আজিজপুর থেকে বাংলাবাজার পর্যন্ত একমাত্র সড়কটি যেন এখন দুর্ভোগের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে থাকা এই সড়কটি ভেঙে গেছে চরমভাবে, যা যোগাযোগ ব্যবস্থা তো বটেই, শিক্ষা, কৃষি ও ব্যবসার ক্ষেত্রেও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, যদি বর্ষার আগেই টেকসই সংস্কার না করা হয়, তবে পুরো অঞ্চলটি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সিলেট জেলার বালাগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়নের আজিজপুর থেকে বাংলাবাজার পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘদিন ধরেই অবহেলায় পড়ে আছে। পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের জন্য এটি একমাত্র নির্ভরযোগ্য সড়ক হলেও বর্তমানে তার অধিকাংশ অংশ ভাঙা, কাদা ও গর্তে ভরা। ফলে এই পথে চলাচল এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

বিশেষ করে বর্ষাকালে সড়কের অবস্থা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এক পাশ দিয়ে বিস্তৃত হাওর থাকায় বন্যার সময় ঢেউয়ের তোড়ে সড়ক ভেঙে পড়ে, এবং কাদায় পরিণত হয় পুরো পথ। স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছরই বর্ষার আগেই সংস্কারের দাবি উঠলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না। বরং পূর্ববর্তী সরকারের সময় একাধিকবার সংস্কার কার্যক্রম শুরুর নামে ইট ও ব্লক ফেলা হলেও কিছুদিন পর তা তুলে নেওয়া হয়েছে, এমনকি কোথাও কোথাও সেগুলোর কোনো চিহ্ন পর্যন্ত আর পাওয়া যায় না।

এই সড়কটি প্রতিদিন স্কুলছাত্র-ছাত্রী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষদের চলাচলের প্রধান মাধ্যম। একজন স্থানীয় কৃষক আহমদ আলী জানান, “ধান কেটে বাড়ি ফেরার সময় এই রাস্তা দিয়েই ট্রলিতে করে যেতে হয়, কিন্তু রাস্তার দুরবস্থার কারণে তা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।”

একজন সিএনজি চালক বলেন, “এই রাস্তায় গাড়ি চালানো মানেই যাত্রী আর চালক—দু’জনেরই জীবন ঝুঁকিতে পড়ে।”
অন্যদিকে, একজন পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বৃষ্টি হলে হাঁটা পর্যন্ত যায় না, কাদা আর গর্তে ভরে যায় রাস্তা।”

শুধু যানচলাচলই নয়, ব্যবসার ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “পণ্য আনতে গিয়ে অতিরিক্ত সময় ও খরচ হচ্ছে। এতে ব্যবসাও ক্ষতির মুখে পড়ছে।”

অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, পুরো ইউনিয়নের পশ্চিম অংশের মানুষ এক ধরনের ‘বিচ্ছিন্ন দ্বীপে’ পরিণত হওয়ার শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয়রা বারবার জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও স্থায়ী কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

অবিলম্বে বর্ষার আগেই এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির টেকসই ও কার্যকর সংস্কার কাজ শুরুর জন্য এলাকাবাসী জোর দাবি জানিয়েছেন। না হলে, ভবিষ্যতে এই সড়কের সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়া এবং পুরো ইউনিয়নের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ