সিলেট ৩১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি
প্রকাশিত: ৫:২৯ অপরাহ্ণ, মে ১৭, ২০২৫
শামসুল ইসলাম : চারদিনের ম্যাচ, উত্তেজনা ছিল টেস্ট ক্রিকেটের প্রতিটি পরতে। কখনো বাংলাদেশ এগিয়ে, কখনো নিউ জিল্যান্ড ‘এ’। শেষ দিনে বৃষ্টির ছায়া, উত্তাপ ছড়ানো স্পিন, আর মুহূর্তের ভেতর বদলে যাওয়া দৃশ্যপট—সব মিলিয়ে ম্যাচটি হয়ে উঠেছিল এক রুদ্ধশ্বাস নাটক। কিন্তু শেষ দৃশ্যে বিজয়ের বদলে ছিল হতাশা।
টি স্পোর্টস কমেন্ট্রি বক্স থেকে বল টু বল ধারাভাষ্য করা অভিজ্ঞ ধারাভাষ্যকার শামসুল ইসলামের চোখে ধরা পড়েছে সেই নাটকীয় পরাজয়ের প্রতিটি বাঁক। সঙ্গে ছিলেন রাহুল রায় ও নাবিল কায়সারের প্রাণবন্ত বিশ্লেষণ। এই ম্যাচ ছিল শুধুই একটা হার নয়, ছিল বাংলাদেশ ‘এ’ দলের কাঠামোগত কিছু দুর্বলতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়ার মুহূর্ত।
নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলের বিপক্ষে চারদিনের ম্যাচে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর শেষ পর্যন্ত হেরে গেল বাংলাদেশ ‘এ’ দল। ম্যাচটি ছিল টেস্টের রূপে একটি রুদ্ধশ্বাস নাটক — যেখানে শেষ দৃশ্যে জয় নয়, বরং হতাশাই অপেক্ষা করছিল সোহানদের জন্য।
প্রথম তিনদিন চলেছে সমানে-সমানে লড়াই। তৃতীয় দিন শেষে নিউজিল্যান্ড ছিল ২১৬/৫ রানে, ম্যাচ তখনও ঝুলে ছিল। কিন্তু চতুর্থ দিনের শুরুতেই দারুণ বোলিংয়ে মাত্র ৪১ রানের ব্যবধানে শেষ পাঁচ উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৪৬ রান — হাতে ছিল পুরো দশ উইকেট আর সময় প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা। পরিস্থিতি স্বাগতিকদের পক্ষেই ছিল বলা চলে।
তবে ব্যাট হাতে শুরুটা ভালো হয়নি। লাঞ্চের আগেই মাত্র ৪০ রানে ফিরে যান বিজয়, মাহমুদুল হাসান জয় এবং মোহাম্মদ অমিত। এরপর অবশ্য অংকন ও জাকির হোসেন দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ইনিংসকে এগিয়ে নেন। জাকির হাফসেঞ্চুরি করলেও, তার বিদায়ের পর চাপ বাড়তে থাকে।
সোহান ও অংকনের মধ্যে গড়ে ওঠে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ফিফটি পার্টনারশিপ। তখনই হঠাৎ টি-ব্রেকের সময় শুরু হয় হালকা বৃষ্টি। প্রায় এক ঘণ্টা খেলা বন্ধ থাকায় দল পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়—জয়ের চিন্তা সরিয়ে রেখে ড্র-এর দিকে এগুতে থাকে বাংলাদেশ।
কিন্তু টি-ব্রেকের পর সোহানের আউট দলকে ফের ব্যাকফুটে ঠেলে দেয়। সব চাপ এসে পড়ে অংকনের কাঁধে। এরপর লেগস্পিনার আদিত্য অশোকের এক জাদুকরী ওভারে ধস নামে। তিনি এক ওভারেই তিনটি উইকেট তুলে নেন, এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই ১৭০/৬ থেকে বাংলাদেশ অলআউট হয়ে যায় মাত্র ১৭৫ রানে।
অংকন ৫৭ রানে অপরাজিত থাকলেও সংগীর অভাবে ম্যাচটা আর বাঁচানো গেল না — মাত্র ১৫ মিনিট, কয়েকটি ওভার পার করতে পারলেই ম্যাচটি ড্র হতে পারতো।
এই ম্যাচে বাংলাদেশের একাদশ গঠন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কোন অলরাউন্ডার না থাকা, মাত্র ছয় স্বীকৃত ব্যাটারের উপর নির্ভরতা, ব্যাটিং গভীরতার অভাব—সবই স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে এই পরাজয়ে। যদিও ব্যাক্তিগত পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো—খালেদের ৬/৫৯, হাসান মুরাদের পাঁচ উইকেট, নাইম হাসানের চার উইকেট, সোহানের শতক এবং জাকির ও অংকনের হাফসেঞ্চুরি—তবুও দলীয় ব্যর্থতা ঢেকে দিতে পারেনি এসব সাফল্য।
জাতীয় দলের ছায়া দল বলা হয় এই বাংলাদেশ ‘এ’ দলকে। একাদশে আটজনেরই ছিল টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা। তারপরও এমন পরাজয় অনেক প্রশ্নের জন্ম দেয়। শেষ বিকেলের মন খারাপ করা এই হার আবারও স্মরণ করিয়ে দিল—টেস্টে এখনও নিজেদের দূর্বলতাগুলো কাটিয়ে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ।
এই ম্যাচের বল টু বল ধারাভাষ্য দিয়েছেন অভিজ্ঞ ধারাভাষ্যকার শামসুল ইসলাম। টি স্পোর্টস কমেন্ট্রি বক্সে তার সাথে ছিলেন রাহুল রায় ও নাবিল কায়সার—যাদের উপস্থাপনা পুরো ম্যাচটিকে আরও উপভোগ্য করে তোলে। এই লেখাটি সেই ধারাবর্ণনারই প্রতিফলন।
সম্পাদক : সাদিকুর রহমান সাকী
Design and developed by EBN-HOST-BD