সিলেট ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৯শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২রা রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি
প্রকাশিত: ৮:১৬ পূর্বাহ্ণ, মে ২৩, ২০২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে তিন দিনব্যাপী বৈশাখী লোকনাট্য উৎসবের উদ্বোধনী দিন বৃহস্পতিবার (২২ মে) বিকেলে ‘হাদা মিয়া’ ও ‘মাদা মিয়া কে নিয়ে আয়োজিত হলো ‘মালজোড়া গানের আসর। হাদা মিয়া ও মাদা মিয়া ছিলেন সিলেটে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের শহীদ দুই ভাই, যারা ১৭৮২ সালের, হিজরি ১০ মহররম সিলেটের ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর রবার্ট লিন্ডসের সুসজ্জিত বাহিনীর বিরুদ্ধে এক সাহসী বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়ে শহীদ হোন।তাঁদের আসল নাম সৈয়দ হাদী ও সৈয়দ মাহাদি, যাঁরা ‘হাদা মিয়া’ ও ‘মাদা মিয়া’ নামে লোককথায় পরিচিত। তাঁদের এই আত্মত্যাগ ও বীরত্বের গল্প ঘিরেই আয়োজিত হলো ‘মালজোড়া গানের আসর’।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের আয়োজনে একাডেমির প্রশিক্ষণার্থীরা গানের এই পালাটি মঞ্চস্থ করেন।
বিকেল পাঁচটায় জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় উৎসবের উদ্বোধন করেন সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আনোয়ার উজ জামান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জ্যোতি সিনহা। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য শামসুল বাসিত শেরো ও সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটের প্রধান পরিচালক অরিন্দম দত্ত চন্দন ।
উদ্বোধনী পর্ব শেষে বিকেল সাড়ে পাঁচটায় পরিবেশিত হয় ‘হাদা মিয়া মাদা মিয়ার পালা’। প্রায় ৪৫ মিনিট ব্যাপী এই মালজোড়া গানে ইতিহাস, প্রতিরোধ ও বীরত্বের গল্প গানে গানে জীবন্ত হয়ে ওঠে। পালাটির রচয়িতা ও নির্দেশক ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নাট্যব্যক্তিত্ব ভবতোষ রায় বর্মণ। মূল গায়ক হিসেবে অংশ নেন সুমন চক্রবর্তী ও শুভ রঞ্জন দাস।
পালা শেষে শিল্পী প্রতীক এন্দের পরিচালনায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির সংগীত সাধারণ বিভাগের প্রশিক্ষণার্থীরা সমবেত কণ্ঠে পরিবেশন করেন হাসন রাজার বিখ্যাত গান ‘লোকে বলে বলে রে’।
তিন দিনব্যাপী এই উৎসবে আজ শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটায় অনুষ্ঠিত হবে সারিগান, ধামাইল ও পুথি পাঠ এবং আগামীকাল শনিবার একই সময়ে অনুষ্ঠিত হবে কবিগানের লড়াই। সমাপ্তি হবে সমাপনী পর্ব দিয়ে।
সম্পাদক : সাদিকুর রহমান সাকী
Design and developed by EBN-HOST-BD