সিলেট ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৫ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি
প্রকাশিত: ১০:০৪ পূর্বাহ্ণ, মে ২৪, ২০২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের রাজনীতিতে একেক সময় একেক নাম আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। সম্প্রতি সেই জায়গাটি যেন দখল করে নিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ। এক দশক আগে ‘নিখোঁজ’ হয়ে পরে ভারতের শিলংয়ে ‘আবিষ্কৃত’ হওয়া এই রাজনীতিক বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে, কিন্তু তা শুধুই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে নয়—বরং তাকে ঘিরে সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা নানা মন্তব্য, অভিযোগ ও রহস্যময় তথ্যের কারণে। বিশেষ করে, তার ভারতে অবস্থানকাল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে সিলেটের প্রবাসী সাংবাদিক ইকবাল মাহমুদের একটি ফেসবুক পোস্টের সূত্র ধরে।
২০১৫ সালের ২৫ মার্চ ঢাকার উত্তরা থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হন বিএনপির তৎকালীন যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ। এরপর দীর্ঘ দুই মাস তার আর কোনো খোঁজ মেলেনি। হঠাৎ ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলং শহরের একটি রাস্তায় তাকে ‘খুঁজে পাওয়া’ যায়। অনুপ্রবেশের অভিযোগে ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী তাকে আটক করে। তখন থেকেই শুরু হয় রহস্যের জাল বোনা—তিনি কীভাবে সীমান্ত পেরিয়ে গেলেন, কার সাহায্যে, কী উদ্দেশ্যে?
সেই প্রশ্নগুলো আরও একবার সামনে চলে এসেছে, সম্প্রতি আমেরিকায় বসবাসরত সিলেটের একজন সিনিয়র সাংবাদিক ইকবাল মাহমুদের একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে। বাংলাদেশ সময় ২৪ মে শনিবার সকালে দেওয়া সেই পোস্টে ইকবাল মাহমুদ সালাহ উদ্দিন আহমদকে আখ্যা দিয়েছেন “রাজনীতির রহস্যপুরুষ” হিসেবে।
তিনি লিখেছেন, “২০১৬ সালে শিলংয়ে বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিনের সঙ্গে বিশেষ ব্যবস্থায় দেখা করি। সে এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা। একজন অভিযুক্ত ব্যক্তি, যিনি ভারতের মাটিতে অবৈধ অনুপ্রবেশে আটক, অথচ কোনো জেলে ছিলেন না। বরং একটি রাজসিক বাংলোয়, সবুজ ঘাসে ঘেরা লন, আরামদায়ক বেতের সোফায় বসে আমাদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় আলাপ করেন। তার স্ত্রীও সেখানে অবস্থান করছিলেন।”
তিনি আরও দাবি করেন, সেদিনের সেই সাক্ষাৎ ছিল সম্পূর্ণ নীরব ও ‘অপ্রকাশযোগ্য’ চুক্তির অংশ। কোনো ছবি, ভিডিও বা খবর প্রকাশের অনুমতি ছিল না। তবে সালাহ উদ্দিনের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করে তিনি মন্তব্য করেন, “ভারতে তার অবস্থান ছিল না কোনো বন্দিত্ব, বরং ছিল রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ। এবং সেই প্রশিক্ষণ এখন কাজে লাগাচ্ছেন তিনি দেশে ফিরে।”
এই পোস্ট সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে সময় নেয়নি। শনিবার বিকাল পর্যন্ত পোস্টটি শেয়ার হয়েছে প্রায় ৮ হাজার বার এবং মন্তব্য করেছেন দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ। বেশিরভাগ মন্তব্যই এসেছে সালাহ উদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে। তার ‘গুম’ হওয়ার গল্প নিয়ে যেমন প্রশ্ন তোলা হয়েছে, তেমনি ভারতের ‘রাষ্ট্রীয় অতিথি’ হয়ে ‘রাজনৈতিক পুনঃপ্রশিক্ষণ’ গ্রহণের সম্ভাবনাকেও আলোচনায় আনা হয়েছে।
এর আগেই সালাহ উদ্দিনকে নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল প্রবাসী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইনের ‘র-এর এজেন্ট’ মন্তব্য ঘিরে। এবার ইকবাল মাহমুদের বক্তব্যে তা যেন আরও ঘনীভূত হলো।
উল্লেখ্য, গত চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর দেশে ফেরেন সালাহ উদ্দিন আহমদ। এরপর থেকেই তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও জাতীয় রাজনীতি নিয়ে ধারাবাহিকভাবে মন্তব্য করে যাচ্ছেন, যা অনেক সময় বিএনপির ভেতরে-বাইরের অনেককে অস্বস্তিতে ফেলছে।
বিএনপির এই নেতার গত এক দশকের কার্যক্রম নিয়ে নানা গুঞ্জন থাকলেও সাম্প্রতিক এই মন্তব্যগুলো যেন নতুন করে আলোড়ন তুলেছে।
সম্পাদক : সাদিকুর রহমান সাকী
Design and developed by EBN-HOST-BD