সিলেট ৩১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি
প্রকাশিত: ৭:৫৬ পূর্বাহ্ণ, মে ২৭, ২০২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক : বর্ষাকাল শুরু হওয়ার আগেই সিলেটে বাড়ছে পাহাড়ধসের আশঙ্কা। বিশেষ করে টিলাপ্রবণ এলাকাগুলোতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করা পরিবারগুলোর মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। অতীতের অভিজ্ঞতা ও বর্তমান প্রেক্ষাপটের ভিত্তিতে প্রশাসন থেকে শুরু করে সচেতন মহল সক্রিয় হলেও বাস্তবতা বলছে—এখনো অনেক কিছু করার বাকি।
সিলেটে প্রতি বছর বর্ষার সময় পাহাড়ধস ও বন্যা যেন একটি চিরচেনা দুর্যোগ। বিশেষ করে আষাঢ়-শ্রাবণের টানা বৃষ্টিতে পাহাড় বা টিলার পাদদেশে বসবাসকারী মানুষের জীবন হুমকির মুখে পড়ে। এই বাস্তবতায় বর্ষাকাল আসার আগেই আশঙ্কা জোরালো হচ্ছে ভূমিধস নিয়ে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-এর হিসাবে, সিলেট বিভাগে প্রায় ৪০০টি পাহাড় ও টিলা রয়েছে, যার অর্ধেকেরও বেশি এলাকায় দরিদ্র জনগণ ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। এসব পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া না গেলে বড় ধরনের প্রাণহানির ঝুঁকি থেকে যাবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সিলেট জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আনোয়ারুজ্জামান বলেন,
“আমরা পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার তালিকা তৈরি করেছি। সেই অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলো এবং সিটি করপোরেশনকে সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য প্রচারণা চালানো হচ্ছে। প্রয়োজনে উচ্ছেদের ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।”
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাই রাফিন সরকার জানান,
“আমরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে প্রচারণা শুরু করেছি। খুব শিগগিরই মাইকিংয়ের পাশাপাশি সিলেটের জনপ্রিয় সংবাদপত্রে সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন প্রকাশের পরিকল্পনাও রয়েছে।”
সিলেট সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনুর রুবাইয়াৎ জানান,
“আমরা লোকজনকে ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করছি। খুব দরকার হলে উচ্ছেদের বিষয়টি কঠোরভাবে বিবেচনা করা হবে। আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে।”
যেসব এলাকায় বিপদের আশঙ্কা বেশি
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নগরের হাওলাদারপাড়া, আখালিয়া, পীরমহল্লা, ব্রাহ্মণশাসন, তারাপুর চা বাগান, বালুচর, খাদিমনগর, জোনাকী, মেজরটিলা, ইসলামপুর, মংলিরপাড়সহ টিলাপ্রবণ এলাকায় শত শত পরিবার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।
তাছাড়া সিলেট জেলার জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট, গোলাপগঞ্জ, কোম্পানীগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ, বিয়ানীবাজার উপজেলাতেও একই চিত্র। এসব এলাকায় বর্ষার আগেই সচেতনতা ও স্থানান্তরের কার্যক্রম জোরদার না করলে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।
শেষ কথা:
বর্ষা আসার আগেই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আবারও ঘটতে পারে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়। প্রশাসনের প্রচেষ্টা শুরু হলেও তার বাস্তব প্রয়োগ ও নজরদারি বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। শুধু প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে নয়, দুর্ঘটনার আগে থেকেই সক্রিয় হওয়ার ওপরই নির্ভর করছে হাজারো মানুষের জীবনরক্ষা।
সম্পাদক : সাদিকুর রহমান সাকী
Design and developed by EBN-HOST-BD