সিলেট ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১লা জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি
প্রকাশিত: ৩:৪৬ অপরাহ্ণ, জুন ৪, ২০২৫
কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি ॥
বিনা প্রচারণায়, চুপিসারে আর ‘সাংবাদিক বর্জনের’ মধ্য দিয়ে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ ২০২৫ উদযাপন করলো সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ। এমন এক সপ্তাহব্যাপী জাতীয় কর্মসূচি স্থানীয় পর্যায়ে অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার ঘটনায় উঠেছে প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগ। আর এতে করে স্থানীয় সাংবাদিক মহলে বিরাজ করছে চরম ক্ষোভ ও হতাশা।
‘শিশু থেকে প্রবীণ, পুষ্টিকর খাবার সর্বজনীন’ — এই প্রতিপাদ্য নিয়ে ২৮ মে থেকে শুরু হওয়া কর্মসূচির সমাপ্তি হয় ৩ জুন। যদিও তা ঘোষণা ছিল সাতদিনের, বাস্তবে কার্যক্রম চলে মাত্র তিন দিন। এর মধ্যেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আয়োজন করা হয় সমাপনী অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ।
তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর ও বিতর্কিত দিক হলো — এত বড় একটি জাতীয় আয়োজন থেকে স্থানীয় সাংবাদিকদের সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। কোম্পানীগঞ্জে কার্যকর একটি প্রেসক্লাব রয়েছে। রয়েছে জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের সরব উপস্থিতি। অথচ কারও কাছেই পৌঁছায়নি পুষ্টি সপ্তাহের কর্মসূচির কোনো আমন্ত্রণ, কোনো তথ্য কিংবা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আরিফুর রহমান নয়ন বলেন,
“আমি ইউএনও স্যারকে জানিয়েছি। স্থানীয় তিনজন সাংবাদিক তাঁরই মনোনীত করার কথা ছিল। তিনি সেটা করেননি। এখানে আমাদের কোনো হাত নেই।”
কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে— একটি জাতীয় কর্মসূচিকে তিনজনে সীমাবদ্ধ করে দেওয়ার অধিকার কে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসনকে? কিসের ভিত্তিতে এমন ‘নির্বাচন’? গণমাধ্যমের কাজ তো শুধু রিপোর্ট করা নয়, এমন সরকারি কর্মসূচির জবাবদিহি নিশ্চিত করাও। সেখানে পুরো সাংবাদিক সমাজকে বাইরে রাখার অর্থ কি এই যে প্রশাসন কিছু ‘দেখাতে চায়নি’?
ঘটনার পর প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দসহ উপজেলার বিভিন্ন সাংবাদিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং জানিয়েছেন,
“আমরা বিষয়টি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং সিলেট বিভাগীয় কমিশনার বরাবর লিখিতভাবে জানাবো। এতে শুধু সাংবাদিকদের অসম্মান নয়, জাতীয় কর্মসূচির অপমানও হয়েছে।”
বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আজিজুন্নাহার ফোন রিসিভ করেননি।
স্থানীয় সাংবাদিকদের মতে, এটি নিছক ভুল নয়, বরং সাংবাদিকদেরকে ইচ্ছাকৃতভাবে বর্জন করার একটি সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ।
এটি গণতন্ত্র ও স্বচ্ছতার পরিপন্থী — এবং প্রশাসনের এমন আচরণ প্রশ্ন তোলে জাতীয় কর্মসূচির প্রতি স্থানীয় সরকারের দায়বদ্ধতা নিয়ে।
সম্পাদক : সাদিকুর রহমান সাকী
Design and developed by EBN-HOST-BD