পাথর কোয়ারি ইজারা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার দাবি

প্রকাশিত: ৩:৪৮ অপরাহ্ণ, জুন ১৮, ২০২৫

পাথর কোয়ারি ইজারা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক ; অবিলম্বে পাথর কোয়ারি ইজারা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সিলেট জেলা পাথর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। সেই সোথে তারা ট্রাক শ্রমিকদের গাড়ি তল্লাশির নামে হয়রানি ও পুলিশি নির্যাতন বন্ধ করা এবং ক্রাশার মিল মালিকদের ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি ও বিদ্যুৎ মিটার পুনরায় ফেরত দেয়ার দাবি জানিয়েছে।

এসব দাবি অবিলম্বে কার্যকর করা না হলে, বৃহত্তর সিলেটবাসীকে নিয়ে আগামী ২২ জুন (রোববার) সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে পরবর্তিতে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেয়া হবে বলেও হুশিয়ারি দেন পাথর সংশ্লিষ্ট মালিক- শ্রমিক ঐক্য পরিষদ নেতৃবৃন্দ।

বুধবার (১৮ জুন) সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের পক্ষ থেকে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।

এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক শওকত আলী বাবুল।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সিলেট বিভাগের একমাত্র উপার্জনের ক্ষেত্র পাথর কোয়ারিসমূহের ইজারা বন্ধ থাকার ফলে এ অঞ্চলের কোটি মানুষের জীবনে নেমে এসেছে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। উপদেষ্টা পরিষদ পরিবেশের দোহাই দিয়ে বৈষম্যমূলকভাবে কেবলমাত্র সিলেটের ৫টি পাথর কোয়ারির ইজারা কার্যক্রম স্থগিত করেছেন যা অমানবিক। অন্তবর্তী সরকারের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা একটি চক্র ভারতীয় এজেন্টদের মদদে এসব হচ্ছে।

তারা বলেন, উপদেষ্টা পরিষদের এই সিলেট বিদ্বেষী হঠকারি সিদ্ধান্ত আমাদের ব্যথিত করেছে। এ অঞ্চলের মানুষের ভরসার স্থল পরিবেশ বন ও জলবায়ু উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও তার সাথে জাফলং ভ্রমণে আসা জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল করিম খান মতবিনিময় সভায় সিলেটে পাথর কোয়ারি লিজ না দেয়ার ঘোষণায় পাথর সংশ্লিষ্ট জীবিকা নির্বাহকারীরা হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন। নেতৃবৃন্দ মানবিক বিবেচনায় এই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের জন্য প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ফ্যাসিবাদ আওয়ামী সরকারের মদদপুষ্ট শক্তিশালী সিন্ডিকেট ২০১৮ সাল থেকে সিলেটের পাথর কোয়ারিসমূহ বন্ধ করে দেয়। এর ফলে এ অঞ্চলের লাখ লাখ শ্রমজীবী, ব্যবসায়ী ও খেটে খাওয়া মানুষের জীবনে নেমে আসে চরম দুঃখ ও দুর্দশা।

তারা বলেন, গত ৫ আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ফসল বর্তমান সরকার দেশের ৫৩টি পাথর কোয়ারি পাঁচ দফায় ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তৃতীয় দফায় ইজারা দেওয়ার পর কেবলমাত্র সিলেট বিভাগের ৫টি পাথর কোয়ারির ইজারা স্থগিত করা হয়, যা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়।

দেশে থাকা বিদেশি এজেন্টদের কারণে সিলেটের পাথর সংশ্লিষ্ট সবাই বৈষম্যর শিকার হচ্ছেন। অথচ, দেশ থেকে বৈষম্য দূর করতে শত শত ছাত্র জনতা তাদের বুকের তাজা রক্ত দিয়েছিলেন। কিছু স্বার্থন্বেষী মহলের কারণে দেশের এ গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ উত্তোলন সম্ভব হচ্ছে না বলেও উল্লেখ করেন।

মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ নেতৃবৃন্দ বলেন, অবকাঠামো উন্নয়নের অন্যতম উপাদান পাথরের পর্যাপ্ত মজুদ সিলেটের পাথর কোয়ারিগুলোতেই বিদ্যমান। আধিপত্যবাদি ভারতের স্বার্থে কোয়ারি বন্ধ করে দিয়ে পাথরের চাহিদা মেটাতে বিগত সময়ে বাংলাদেশের প্রায় সকল সীমান্ত দিয়ে আমদানি করা হয় ভারতীয় নিম্নমানের চুনাপাথর। রিজার্ভের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ভারতে পাচার করে তার বিনিময়ে নিম্নমানের পাথর এনে দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়। এইসব অবকাঠামোর ভবিষ্যৎ স্থায়িত্ব মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিলেট বিভাগ পাথর সংশ্লিষ্টব্যবসায়ী মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহবায়ক আব্দুল জলিল, যুগ্ম আহবায়ক মো: দিলু মিয়া, যুগ্ম আহবায়ক ও ট্রাক মালিক গ্রুপের সহসভাপতি আতিকুর রহমান, যুগ্ম আহবায়ক মুজিবুর রহমান, ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যকরি সভাপতি আব্দুস সালাম, ট্রাক মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নুর আহমদ খান সাদেক, বাদল, জয়নুল হক, জাফলং পাথর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শামীম পারভেজ, জাফলং ট্রাক চালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন আলী, সোহাগ, নিজাম উদ্দিন, ধুপাগুল স্টোন ক্রাশার মালিক সমিতির সহসভাপতি মুহিবুর রহমান সুলেমান, মুজাম্মেল আলম, নুরুল ইসলাম, কোম্পানিগঞ্জের পাথর ব্যবসায়ী আজির মিয়া, জসিমুল ইসলাম আঙ্গুর, মতিউর রহমান, ট্রাক মালিক সমিতির সহসভাপতি নারায়ণ পুরকায়স্থ ফনি, জয়নাল আহমদ, ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক শাব্বীর আহমদ ফয়েজ প্রমুখ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ